
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলার উদ্দেশ্যে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং সেন্টকমের একটি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভোরে দেশটির আকাশে প্রবেশ করা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি এবং মার্কিন বাহিনীর ‘অবৈধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ অব্যাহত থাকলে তাদের প্রতিরোধও চলবে।
এদিকে একই দিনে ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অবস্থান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা, যারা মার্কিন সেনা ও সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় হামলার সঙ্গে জড়িত।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিনের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর নতুন এই হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। ইরানের হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারের ওপরে ওঠে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ৮৮ ডলারের বেশি হয়।
এদিকে হোয়াইট হাউসে বৈঠকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, ইরানকে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী জাহাজ থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রণালির নৌপথ যৌথভাবে পরিচালনার বিষয়ে ওমানের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, প্রণালির প্রবেশপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকতে হবে, আর বিপরীতমুখী নৌপথের একটি অংশ পরিচালনা করবে ওমান।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীনের তৈরি সর্বোচ্চ ৪০০টি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা পেতে পারে ইরান।
সূত্র: আল জাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :