উদ্বোধনের আগেই হাসপাতালের ভবনে ফাটল
নিউজ ডেস্ক | রাজনীতিবার্তা.কম
আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০২৪ , ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ

জামালপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নবনির্মিত ল্যাবরেটরি ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটলের স্থানে পুনরায় পলেস্তারা করে মেরামত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ‘নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় এ ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ঠিকাদার আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন।
নির্মাণ কাজে দুর্নীতি করলেও কেও কোনো কথা বলেনি। এই সুযোগে তিনি নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২০২২ সালের ৩০ জুন ছয়তলা বিশিষ্ট দুই ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ বছরের ২৮ মার্চ ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
ভবনটি নির্মাণের কাজ পেয়েছিল তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে ওই মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে নিয়ে কাজটি করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন। ভবনটির নির্মাণ করতে ব্যয় হয় ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো ভবনটি বুঝে নেয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘হাসপাতালের মূল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই ভবন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের আগেই এক্স-রে, ইকো কার্ডিওগ্রাম, এন্ডোস্কোপি, ইসিজিসহ নিরীক্ষা পরীক্ষার মেশিন স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে অস্থায়ীভাবে ওই সব কার্যক্রম চলছে। তবে নবনির্মিত ভবনের ভেতর ও বাইরের দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ছোট বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল সেগুলো পুনরায় মেরামত করার চেষ্টা চলছে।’
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ‘জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মূল ভবনের পশ্চিম পাশে ল্যাবরেটরি কাম ল্যাব স্টোরের দ্বিতীয় তলা ভবন। ভবনের বাহির ও ভেতরের প্রায় শতাধিক স্থানে ফাটল রয়েছে।
ফাটল ধরা দেয়ালে পুনরায় পলেস্তারা করা হয়েছে।’
হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কক্ষের কর্মচারীরা বলছেন, ‘ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় দুইতলা বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। নতুন বিল্ডিংয়ের দুই-এক জায়গায় সামান্য পরিমাণের ফাটল ধরতে পারে। তবে এ বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরেছিল সেগুলো পুনরায় পলেস্তারা করে মেরামত করেছে।’
জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘বিল্ডিং নির্মাণের প্রথম থেকেই কাজে অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। এ জন্যই বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরেছে। সেই সময় কাজে অনিয়ম দুর্নীতি করলেও কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি। সেই সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতা ঠিকাদার থাকায় কেউ কোনো কথা বলেনি। ফাটল ধরা স্থান মেরামত করলেও আবার ফাটল ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্মাণ কাজে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে তা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
ভবনটির নির্মাণকাজ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন। তিনি পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে নেওয়ার আগেই রোগ নির্ণয় করার মেশিন ওই ভবনে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাই ভবনেই চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এর মধ্যে ওই ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা যায়। বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়। পরে মেরামত করছে।
এ বিষয়ে জামালপুরের গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের অফিসে কয়েকবার গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রাজনীতিবার্তা.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।