ভিডিওটা কে প্রকাশ করল, কোনো পরিকল্পনার অংশ কি না— তা খতিয়ে দেখা দরকার


Arafat Nur প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ /
ভিডিওটা কে প্রকাশ করল, কোনো পরিকল্পনার অংশ কি না— তা খতিয়ে দেখা দরকার
জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কে প্রকাশ করেছে এবং এটি কোনো পরিকল্পনার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারও সমানভাবে রক্ষা করা উচিত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে এসব কথা বলেন তিনি।
মনিরা শারমিন বলেন, একজন রাজনীতিবিদ বলেই তার শয়নকক্ষের ভেতরে ঢুকে পড়ার সুযোগ নেই। ভিডিওটি কে প্রকাশ করেছে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। এটি কোনো পরিকল্পনার অংশ কি না, সেটিও উদ্ঘাটন হওয়া দরকার।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চরিত্র হননের যে সংস্কৃতি দেখা গেছে, সেটি আবার কেন ফিরে আসছে, সেই প্রশ্নও জোরালোভাবে তোলা প্রয়োজন। তা না হলে আজ যিনি ভুক্তভোগী, কাল অন্য কেউও একই পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের একটি মানসিকতা রয়েছে। কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তারা সেটি অস্বীকার করে প্রতিরক্ষায় নেমে পড়েন। কখনো বলা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসা প্রয়োজন। প্রত্যেক মানুষেরই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। একজন রাজনীতিবিদ হলেও সেই অধিকার খর্ব করা যায় না। একই সঙ্গে দলগুলোর সাংগঠনিক পর্যায়ে এমন বিষয় কতটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
মনিরা শারমিন বলেন, জামায়াতের বিবৃতি তিনি দেখেছেন। দলটি বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ঘটনায় একজন নারীও জড়িত। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হতে পারেন, আবার ঘটনার সময় তার সেই পরিচয় ছিল কি না, সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু তাকে যেভাবে প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা তার ব্যক্তিগত অধিকারের লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, ওই নারীর মুখমণ্ডল প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি তার বায়োডাটা, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, বয়স, উচ্চতা ও ওজন পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে তাকে সামাজিকভাবে হেনস্তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং সমাজের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে। এ ঘটনার কারণে ওই নারীর পরিবারও অপ্রয়োজনীয়ভাবে আলোচনায় চলে এসেছে। তাঁর বাবাকে প্রকাশ্যে এসে মেয়ের বিয়ে নিয়ে বক্তব্য দিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পড়ার কথা ছিল না তাদের।
তিনি বলেন, এখন এমন একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনো ঘটনা ঘটলেই মানুষ নিজেরাই বিচারকের ভূমিকায় নেমে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন একটি আদালতে পরিণত হয়েছে। সেখানে মানুষ নিজেরাই ঠিক-ভুল নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এই প্রবণতা থেকেও বের হয়ে আসা প্রয়োজন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের প্রতি মানুষের একটি আলাদা প্রত্যাশা রয়েছে। সেই ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য দলটির সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী যেসব রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে, তাদের মধ্যে যখনই অস্থিরতা বা বিভক্তি তৈরি হবে, তখনই পতিত সরকার এবং তাদের সহযোগীরা সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তাই বিভক্তি বাড়লে শেষ পর্যন্ত সেটি তাদের পক্ষেই সুবিধা তৈরি করবে।