নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান


Arafat Nur প্রকাশের সময় : আগস্ট ৬, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ /
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদের উদ্যোগে রাজধানীর উত্তরার মুগ্ধমঞ্চে ‘২৪শে জুলাই চেতনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি মুফতি কামাল উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাইল সাদী-এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সংঘটিত জুলাই আন্দোলনে কওমি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছাত্র-জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আন্দোলনে শতাধিক মাদরাসার ছাত্র ও আলেম শাহাদাত বরণ করেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন।

বক্তারা বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য আন্দোলনে কোনো ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ জড়িত ছিল না। সরকারি স্বীকৃতির প্রশ্নে তারা নিজেরা বৈষম্যের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী না হওয়া সত্ত্বেও দেশ, জাতি ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আত্মত্যাগ করেছেন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল, তার বাস্তবায়নে এখনও অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। তারা অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটছে, তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না এবং গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়নও দৃশ্যমান নয়।

বক্তারা আরও বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয়ভাবে মাদরাসা দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি। তারা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি কওমি মাদরাসার আলেম-উলামা ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদ জুলাই চেতনা, শাপলার চেতনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশ ও ইসলামের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সকল ন্যায়সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবেন বলেও তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভায় বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবু সালেহ রহমানী, সহ-সভাপতি মাওলানা হারুন অর রশিদ, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, মাওলানা হেলাল উদ্দিন কাসেমী, যুগ্ম সম্পাদক মুফতি সাইফুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুফতি আবু তালহা মাসউদ, ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির সদস্য নুর মুহাম্মদ ও নাহিদ শিকদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের সদস্য আরাফাত নুর, উত্তরখান থানা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ আড়াইহাজারী, সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল্লাহ শিবলী, উত্তরা পশ্চিম থানা সেক্রেটারি মুফতি সাইদুল ইসলাম আজাদী, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক গাজী মাসুদুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা খাইরুল ইসলাম খান জিহাদী, মাওলানা আমিনুল হাসান, তুরাগ থানা সহ-সভাপতি মুফতি মফিজুল ইসলাম মনির কাসেমী, মাওলানা আব্দুল্লাহ ইয়াকুব, মাওলানা আব্দুল কাদের, তুরাগ থানা সেক্রেটারি মাওলানা ওমর ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু বকর, উত্তরা পশ্চিম থানা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ, ৫১ নং ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা আনিসুর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা জাহিদ হাসান জামালপুরী, ৫৩ নং ওয়ার্ড সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এমদাদুল্লাহ, অর্থ সম্পাদক মুফতি ইশহাক আল ফরিদী, ৫২ নং ওয়ার্ড প্রচার সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন গাজী, মুফতি মোজজাম্মেল হোসাইন খান (শাইখুল হাদিস, জামিয়া মাহমুদিয়া, তুরাগ) এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মুফতি শামসুল হুদা।

এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী মাওলানা ফজলুল হক, মাওলানা আল আমিন, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মাহদী হাসান, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা সুলাইমান সাদ, মাওলানা মুজাম্মেল হক, মাওলানা হিজবুল্লাহ, মাওলানা ফয়সাল আহমেদ, মাওলানা মাঈনুল ইসলাম, মাওলানা জামিল আহমেদ, মাওলানা মনির হুসাইন, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মুফতি মায়ারিফুল হক-সহ বিপুলসংখ্যক জুলাই যোদ্ধা, আলেম-উলামা ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।